মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা

আল্লাহ তা'আলা আমাদের যেমন জন্ম দিয়েছেন, তেমনি আমাদের মৃত্যুর মাধ্যমে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নিবেন। আমরা মুসলীম হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেছি বলে আল্লাহর কাছে সবসময় আলহামদুলিল্লাহ শুকরিয়া আদায় করা প্রয়োজন। কারণ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে আমাদের চাইতেও বেশি ভালোবাসেন। তাইতো আমরা যতই গুনাহ করি না কেন, যদি আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে ঐ গুনার জন্য অনুতপ্ত হই, তাহলে আল্লাহ তা'আলা আমাদের গুনাসমূহ মাফ করে দেন। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের মনে শান্তি ফিরে পাই।
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ বলেছেন- ‘পৃথিবীর সব প্রাণীকেই মৃত্যু স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ অর্থাৎ জীবন যার আছে মৃত্যু তার সুনিশ্চিত। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে মৃত্যু। কারো আপন জনের মৃত্যুতে স্বজনের বিয়োগ ব্যাথাই নয় বরং মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিও প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ের এ কষ্টের বিবরণ তাঁর উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন। আবার মৃত্যুর এ ভয়াবহতা থেকে মুক্তি লাভের সুস্পষ্ট আমলও শিখিয়ে গেছেন। তাম্বীহুল গাফেলিনে মৃত্যুকালীন কষ্টের ওপর একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসটি হচ্ছে-
‘হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হজরত কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, আমাকে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন হজরত কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘মৃত্যু হলো কাঁটাদার গাছের মতো। কাঁটাযুক্ত সে গাছটি যখন মানুষের পেটে ঢোকানোর পর তার প্রতিটি কাঁটা শিরায় শিরায় লেগে যায়। তখন একজন শক্তিশালী মানুষ যদি গাছিটি ধরে জোরে টেনে বের করার চেষ্টা করে। ওই মুহূর্তে শিরায় শিরায় বিদ্ধ হওয়া কাঁটার আঘাতের কষ্ট মানুষটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে। অনুরূপভাবে মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ে মৃত্যুপথযাত্রীর কাছেও মনে হয় যেন, তার শরীরের গোশতগুলো যেন একটি কাঁটার সঙ্গে বেরিয়ে আসছে। সে মৃত্যুযন্ত্রণা মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে থাকে।’
এ হলো মৃত্যুকালীন সময়ে মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার নমুনা।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় কর; যেভাবে ভয় করা উচিত। এবং অবশ্যই (সবধান!) মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০২)
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের মাধ্যমে মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন। মৃত্যুর পূর্বে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হয়ে যাও। তবেই মৃত্যুকালীন কষ্টসহ পরকালের প্রথম মনজিল কবর, ফুলসিরাত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের দিন নাজাত লাভ করবে।
জীবন ও মৃত্যু মানবজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি পার্থিব হলেও অপরটি পরলৌকিক ও অনিবার্য। মৃত্যুর আগে মানুষ যেসব আমল করবে, আখেরাতে আল্লাহ তাআলা সেগুলোর প্রতিদান দেবেন।
আল্লাহ তাআলা জীবন ও মৃত্যু- এ দুইটি অমোঘ-বাস্তবতা সৃষ্টি করেছেন কে কত ভাল আমল করতে পারে, তা পরীক্ষা করার জন্য।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে সর্বাধিক উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও অতিশয় ক্ষমাশীল। (সুরা আল-মুলক, আয়াত : ০২)
এই কথা গুলোর একটাই রহস্য যে, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সিরিয়াল আছে, কিন্তু কে কখন মৃত্যু বরণ করবেন তার কোনো সিরিয়াল নাই। তাই বেচে থাকতে আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা, তওবা, ইসতেগফার পড়ে আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কাছে ফিরে আসতে হবে।
তাই আমরা যেখানেই থাকি না কেন, সবসময় আল্লাহ তা'আলাকে স্বরণ ও পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা করবো এবং আল্লাহ তা'আলা'র শুকরিয়া আদায় করবো। আর একটা কথা প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুবরণ নই মৃত্যুর সাধ গ্রহণ করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে সর্বাধিক উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও অতিশয় ক্ষমাশীল। (সুরা আল-মুলক, আয়াত : ০২)
এই কথা গুলোর একটাই রহস্য যে, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সিরিয়াল আছে, কিন্তু কে কখন মৃত্যু বরণ করবেন তার কোনো সিরিয়াল নাই। তাই বেচে থাকতে আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা, তওবা, ইসতেগফার পড়ে আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর কাছে ফিরে আসতে হবে।
তাই আমরা যেখানেই থাকি না কেন, সবসময় আল্লাহ তা'আলাকে স্বরণ ও পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা করবো এবং আল্লাহ তা'আলা'র শুকরিয়া আদায় করবো। আর একটা কথা প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুবরণ নই মৃত্যুর সাধ গ্রহণ করতে হবে।
0 Comments